কৃষকদের পাশে সরকার: নাসিরনগর হাওরে ত্রাণ ও নিহত কৃষা পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিলেন কৃষি মন্ত্রী
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হাওরের কৃষকদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে সরকার। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন শনিবার নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বলেন, “কৃষকদের উন্নয়নে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কৃষকের ঘামে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। তাই কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে সুরক্ষিত করতে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই ইউনিয়ন পর্যায়ে মাইকিং করে কৃষকদের নিকট থেকে ধান সংগ্রহ শুরু হবে, যাতে তারা ন্যায্য দাম পান।
হাওরের বাঁধ ও বেড়িবাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ করছে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠান
বিকেলে নাসিরনগর শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। হাওরে ধান নষ্ট হয়ে হৃদরোগে মারা যাওয়া কৃষক আহাদ মিয়ার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় দুই লাখ টাকার চেক। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক কৃষককে দেওয়া হয় ৩০ কেজি করে চাল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুর রহিম। স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নান বলেন, “হাওরবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে সরকার সবসময় থাকবে।”
ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুসারে, নাসিরনগর উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ৩০৫ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৩ কোটি টাকা। তবে কৃষকরা জানিয়েছেন, প্রকৃত ক্ষতি আরও অনেক বেশি।
বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় হাওরের পানি কমতে শুরু করেছে। তবে এখনও অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ, নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা নাছরিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইনসহ স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কে এম বশীর উদ্দিন তুহিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আজ্জম চৌধুরীসহ বিভিন্ন দলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
এম এ হান্নান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী, তারেক রহমান ও কৃষিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।