হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভবন নির্মাণ, ভুক্তভোগীদের প্রতিবাদ
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে হাইকোর্টের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পৈতৃক সম্পত্তির ওপর ভবন নির্মাণ শুরুর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। দ্রুত নির্মাণকাজ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তারা। শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে মকুসুদপুর উপজেলা সদরের কমলাপুর ব্রিজ এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী নিতাই প্রসাদ দাস। তিনি বলেন, ১৯৮০ সালের ২৬ জানুয়ারি রেজিস্ট্রিকৃত ছাপা কবলা দলিলমূলে দুলাল দাসের কাছ থেকে মুকসুদপুর পৌরসভার ৬০নং কমলাপুর মৌজার ৯১৫ নং খতিয়ানের ২১৫৬ দাগের ৫৯ শতাংশ জমি ২০১২ সালের ২৫ জুন আমার মা আমার নামে লিখে দেন। কিন্তু রেকর্ডের সময় ভুলে আমার বড় ভাই মহেন্দ্র প্রসাদ দাস নিজের নামে রেকর্ড করে নেন।
নিতাই প্রসাদ দাস বলেন, আমার বড় ভাই মহেন্দ্র প্রসাদ দাসের মৃত্যুর পর তার ছেলে সুকান্ত দাস বাবার নামে রেকর্ড রয়েছে বলে ওয়ারেশি স্বত্বে তার ভগ্নিপতি কৃষ্ণ গোপাল বসুকে অপ্রত্যাহার যোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলমূলে জমি বিক্রি করার ক্ষমতা দেন। কৃষ্ণ গোপাল বসু পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলমূলে অন্য জায়গায় জমি বিক্রি করে দেন। নিতাই আরো বলেন, এ বিষয়ে পরে মামলা করলে হাইকোর্ট ২০২৬ সালের ২মার্চ স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিলেও তারা অমান্য করে পাকা ভবন নির্মাণ শুরু করেছে। এতে হাইকোর্টের আদেশকে অবমাননা করা হচ্ছে। আমরা এই কাজ বন্ধসহ আদেশ অমান্যকারীদের শাস্তির দাবি করছি।
ভুক্তভোগী নিতাই প্রসাদ দাসের স্ত্রী গৌরী রানী দাস বলেন, ২০২৬ সালের ১৩ এপ্রিল মুকসুদপুর রেজিস্ট্রি অফিসে মুকসুদপুর পৌরসভার ৬০নং কমলাপুর মৌজার ৯১৫ নং খতিয়ানের ২১৫৬ দাগের ৫৯ শতাংশ জমির মধ্যে থেকে পৈতৃক ও মাতৃ স্বত্বে ১০ শতাংশ জমি আমাকে দান করা হয়। গৌরী রানী বলেন, এখানে আমার ভোগ দখলকৃত জমির পাশে কৃষ্ণ গোপাল বসু মুকসুদপুর উপজেলার দিঘড়া গ্রামের জগদীশ চন্দ্র মৃধা ও অলোকা রানী বিশ্বাসের কাছে বিক্রি করে দেন। এরপর থেকে তারা আমার জমির ভেতর প্রবেশ করে পাকা বাড়ি নির্মাণ করছেন। এতে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এই কাজ বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।