মহাসড়কের পাশে শিল্পবর্জ্যের স্তূপ, মাধবপুরে জনদুর্ভোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে শিল্প ও গৃহস্থালি বর্জ্য ফেলে স্তূপ আকারে তৈরি হয়েছে যেন এক ‘ময়লার বার্গার’। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় পাইওনিয়ার ডেনিম ও পাইওনিয়ার গার্মেন্টস কোম্পানি লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরে তাদের কারখানা ও আবাসিক এলাকার বর্জ্য মহাসড়কের পাদদেশে ফেলে আসছে। এতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণ, ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কোম্পানির গেটসংলগ্ন মহাসড়কের পাশে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে জমে রয়েছে বর্জ্যের স্তূপ। শিল্পবর্জ্য ও গৃহস্থালি ময়লার মিশ্রণে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে অসহনীয় দুর্গন্ধ। মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রী ও যানবাহনের চালকরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। অনেকেই জানান, দুর্গন্ধের কারণে সড়কের পাশে কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে থাকাও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এভাবে খোলা স্থানে বর্জ্য ফেলার ফলে এলাকায় শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে আশপাশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোম্পানির এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান, কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই প্রতিদিন সকালে ভ্যানে করে কারখানার বর্জ্য এনে সেখানে ফেলা হয়। তবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, “আমাদের কোনো বর্জ্য এখানে ফেলা হয় না। এলাকার বাসাবাড়ির ময়লা ফেলার কারণে মানুষ ভুল বুঝছে।”
যদিও স্থানীয়দের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, প্রতিদিন সকালে কোম্পানির কর্মীদের ভ্যানে করে বর্জ্য ফেলতে দেখা যায়। এ বিষয়ে তাদের কাছে ছবি ও ভিডিও প্রমাণও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, শিল্পায়ন প্রয়োজন হলেও পরিবেশ ধ্বংস করে উন্নয়ন কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তারা অবিলম্বে বর্জ্য ফেলা বন্ধ, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করে এলাকাটি জীবাণুমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
পরিবেশবিদদের মতে, শিল্পবর্জ্য যথাযথ ব্যবস্থাপনা ছাড়া উন্মুক্ত স্থানে ফেললে তা মাটি, পানি ও বায়ুদূষণের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ধারা ৬গ অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য ফেলা দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১ অনুযায়ী শিল্প-কারখানাগুলোকে নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও শোধন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হয়।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর হবিগঞ্জের উপপরিচালক ড. মোঃ ইউসুফ আলীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ ব্যাপারে মোবাইলে কথা বলতে পারব না। অফিসে এসে কথা বলতে হবে।”