গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উৎকোচ দাবী ও ইউ,পি সদস্যদের শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে ইউ,পি মেম্বারদের কাছে উৎকোচ দাবী,গালিগালাজ ও শারীরিক লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় ১৪নং উজানী ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক ইউ,পি সদস্যরা ৫ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, গত ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে উজানী ইউনিয়নের বাসুদেবপুর দাসবাড়ি হতে উত্তর দিকে ৭০নং বাসুদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তা উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে এসে ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পরিতোষ বৈদ্যের কাছে উৎকোচ দাবী করেন। উক্ত মেম্বার উৎকোচের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্থানীয় লোকজনের সামনে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও অভিযোগে বলা হয়,২০২৪-২৫ অর্থ বছরের কাবিখা প্রকল্পের আওতায় বাসুদেবপুর ওবায়দুলের বাড়ি হতে পশ্চিমে ওয়াপদা খাল পর্যন্ত মাটির রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের শেষ বিলের সময় মামলার ভয় দেখিয়ে পরিতোষ বৈদ্যের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা উৎকোচ নেন তিনি। একইভাবে টিআর প্রকল্পের আওতায় হেমায়েত মোল্লার বাড়ি হতে পূর্ব দিকে সরকারি হালট হয়ে ওহাব শেখের বাড়ি পর্যন্ত মাটির রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে সিপিসি মোঃ জিহাদুর রহমানের কাছ থেকে ৩০হাজার টাকা এবং বন্যাহাটি ৯নং ওয়ার্ডে জগদীশ মৃধার বাড়ি হতে পূর্ব দিকে ওয়াপদা খাল পর্যন্ত রাস্তা পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে সিপিসি জয়দেব মন্ডলের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ নেয়ার কথা অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট ইউ,পি সদস্যদের গালিগালাজ ও শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এমনকি স্থানীয়রা বাধা দিতে এলে ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কানাই মুখাকেও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১৭৬নং পার্টিকেলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট প্রকল্প পরিদর্শনের সময় সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শিফুল বিশ্বাসের কাছেও উৎকোচ দাবী করা হয়। তিনি টাকা দিতে রাজি না হলে তাকেও অপমান ও লাঞ্চিত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ইউনিয়নের একাধিক ইউপি সদস্য পল্লব চৌধুরী, দীপংকর বিশ্বাস, মৃদুল বিশ্বাস, পলি বিশ্বাস, ত্রিনাথ পাণ্ডে ও পংকজ হালদারের কাছ থেকেও মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা উৎকোচ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যাহা সম্পন্ন নিয়ম বহি:ভুত কাজ। অভিযোগকারী ইউ,পি সদস্যরা জানান, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে এধরনের আচরণ তাদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক ও দুঃখজনক। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ৫ এপ্রিল মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ আশিক কবির বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন।
এছাড়া গত ২এপ্রিল বেলা ১১টায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোশাররফ হোসেন মোল্লা প্রজেক্টের কাজ সম্পন্ন করে ফাইনাল বিল আনতে গেলে তার কাছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার মোটা অংকের উৎকোচ দাবী করেন। মেম্বার উৎকোচের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মোঃ মোশাররফ হোসেন মোল্লাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং তার সার্টের কলার ধরে গালি গালাচ করে মারপিট করতে থাকে। পাশের রুমের থেকে লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করেন। উল্লেখ্য,উক্ত মেম্বারের কাছে থেকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা উক্ত প্রজেক্ট বাবদ ৬০ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়েছেন। এরপর ইউ,পি সদস্য মোশারফ হোসেন মোল্লা ২ এপ্রিল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ আশিক কবির বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওবাইদুল ইসলামের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমার ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোশাররফ হোসেন মোল্লাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন,যাহা অত্যম্ত ন্যক্কারজন কাজ করেছেন। ইউ,পি চেয়ারম্যান ওবাইদুল ইসলাম প্রশাসনের কাছে মুকসুদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারের উপযুক্ত বিচার দাবী করেছেন। এছাড়া কয়েকজন চেয়ারম্যান ও মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান, বর্তমান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার প্রতিটি প্রজেক্ট থেকে
মোটা অংকের উৎকোচ নেন। কোন মেম্বার দিতে অস্বীকৃতি জানালে মামলার ভয় দেখিয়ে তাদের সাথে দুর ব্যবহার করেন।
এব্যাপারে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ আশিক কবির মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি অভিযোগের প্রাপ্তির কথা স্বীকার করেন এবং তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান।