পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর কোটালীপাড়ায় মাছের ঘেরে ক্ষতিগ্রস্থ ৫২ পরিবারের পাশে উপজেলা প্রশাসন
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মাছের খামারে ক্ষতিগ্রস্থ ৫২ পরিবারের পাশে দাড়ালেন উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো: মাসুম বিল্লাহ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম শাহজাহান সিরাজ ও কোটালীপাড়া থানা পুলিশ এক অভিযান চালিয়ে স্লুইস গেটের অবৈধ বাঁধ অপসারণ করেন। এরপরই ঘেরের পানি কমতে শুরু করে। স্বস্তি ফিরে আসে মাছের ঘেরের কারনে ক্ষতিগ্রস্থ ৫২ পরিবারে।
জটিয়ার বাড়িতে ভাই ভাই মৎস্য খামার কতৃপক্ষ স্লুইস গেটে বাঁধ দিয়ে পানির প্রবাহ বন্ধ করে মাছ চাষ করে আসছিল। এতে বিপাকে পড়েন এই এলাকার ৫২ টি পরিবার। এসকল পরিবারের বসতবাড়ি, পুকুরপাড়সহ গাছপালা ভেঙ্গে পড়ছিল মাছের ঘেরের কারনে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি কমিশনার (ভূমি)সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে আসছিল দির্ঘদীন ধরে।
গত ৬ অক্টোবর সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই বাঁধ অপসারণ করা হলেও ওই দিন রাতেই পুন:রায় বাঁধ আটকে দেয় ঘের কতৃপক্ষ।
পরবর্তীতে সংবাদ প্রকাশের পর ৫ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হকরে নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জটিয়ার বাড়িতে ছুটে যান। সেখানে দুর্ভোগে থাকা পরিবারগুলোর সদস্যেদের সাথে কথা বলেন। তাদের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেন। এ সময় তাৎক্ষনিকভাবে সুইচগেটের অবৈধ বাঁধ কেটে দেন।


আজ ৬ নভেম্বর সকালে সরেজমিন জটিয়ারবাড়ি এলকায় গিয়ে দেখা যায় ঘেরের পানি প্রায় ২ ফুট কমে গেছে।
ভূক্তভোগী খোকন শিকদার বলেন, মাছের ঘেরের মধ্যে আমাদের ৫২টি পরিবারের বসতবাড়ির মাটি ধসে পড়ে বাড়ির আঙ্গিনায় থাকা বনজ ও ফলজ গাছ ভেঙ্গে পড়ছে। মাছে অতিরিক্ত সার, খৈল ও রাসায়নিক ব্যবহার করায় পানি পচে দুর্গন্ধ হচ্ছে। বর্ষাকালে এই পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। স্লুইস গেটে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রাখায় সময়মত পানি নিষ্কাষণ না করায় সঠিক সময়ে ইরিধানের বীজতলায় বীজ বপন করা যাচ্ছে না। শুধু বসতবাড়িঘরই নয় সরকারি রাস্তাও ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে এই মাছের ঘেরের কারনে। ইতিমধ্যে রাস্তার পাশের সরকারি গাছও ভেঙ্গে পড়েছে ঘেরের ভিতরে। ইউএনও স্যার অবৈধ বাঁধ কেটে দিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা ইউএনও স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। একই সাথে ডেইলী পোস্ট কে ধন্যবাদ জানাই আমাদের দুর্ভোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায়।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার এস এম শাহজাহান সিরাজ বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে তাদের সমস্যা বিভিন্ন দপ্তরে জানিয়ে আসছিলো। বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে উপজেলা মৎস্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দুর্ভোগ নিরসনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক বলেন, সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে জনসাধারণের দুর্ভোগ লাগবে উদ্যোগ নেই। কাউকে ক্ষতিগ্রস্থ করে এভাবে মাছের ঘের পরিচালনা করা যাবে না। এছাড়াও উপজেলায় যে সকল খাল দখল করে মাছের ঘের করা হয়েছে পর্যায়ক্রমে সে সকল খালগুলোও দখলমুক্ত করা হবে।