তারাকান্দায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার; আইজিপি বরাবর অভিযোগ
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বগিরপাড়া এলাকায় পূর্বের একটি হত্যাকাণ্ডের জের ধরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বগিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. তাজুল ইসলাম ওরফে রুবেল (৩২) পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, একই গ্রামের আ. হাই সুরুজ (৬২)সহ কয়েকজন ব্যক্তি পূর্বের বিরোধের জেরে অন্তত পাঁচটি বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় আসবাবপত্র, গবাদিপশু ও স্বর্ণালংকার লুটপাট করা হয় এবং বাড়িগুলোতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় তাজুল ইসলামের চাচাতো ভাই মো. সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে তারাকান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং–২২, তারিখ: ২৭ মার্চ ২০২৬)। পুলিশ এ মামলায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান ওরফে হবি (৫০), আবুল হাসেম ওরফে ভুতু (৬০), হাবিবা আক্তার (২০), আয়শা বেগম (৪২), রহিমা খাতুন (৫২)সহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন তাদের প্রতি ক্ষোভ ও শত্রুতা পোষণ করে আসছে।
গত ১৯ এপ্রিল দুপুরে ভুক্তভোগী পরিবারের কয়েকজন নারী নিজ নিজ বাড়িতে প্রবেশ করতে গেলে অভিযুক্তরা লাঠিসোটা নিয়ে তাদের মারধরের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা বাড়িতে অবস্থান করতে পারছেন না এবং আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সুযোগ পেলে তাদের খুন বা জখম করা হতে পারে এবং ক্ষেতের আধাপাকা ফসল কেটে নেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি অভিযুক্তরা নিজেদের ঘরে আগুন দিয়ে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার পরিকল্পনাও করছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে তারাকান্দা থানায় জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
তারাকান্দা থানা পুলিশের সেকেন্ড অফিসার ( এসআই) লিটন চন্দ্র পাল জানান, পুলিশের নিস্ক্রিয়তার অভিযোগ ভিত্তিহীন ইতিমধ্যে মামলা নিয়ে দুইজন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ প্রতিনিয়ত ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। আইনি পক্রিয়া চলমান আছে।