সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় ফ্যাসীবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে: নুর আহমদ বকুল
১৯ মে ২০২৬ : বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জননেতা কমরেড নুর আহমদ বকুল বলেছেন, “সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এদেশের ছাত্র-যুবদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।”
তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামের পরিবর্তে নানাভাবে মৌলবাদী অপতৎপরতার বিস্তার ঘটছে। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তি ও প্রগতিশীল ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শিক্ষাঙ্গনে বিজ্ঞানমনস্ক, মানবিক ও একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে সোচ্চার হতে হবে।
জননেতা কমরেড রাশেদ খান মেনন-এর ৮৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ যুব মৈত্রী ও বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী যৌথভাবে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি অফিস চত্বরে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে তিনি দেশের ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব সমস্যা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বেকারত্বের অভিশাপে বিপুল সংখ্যক যুবক মাদক, ছিনতাইসহ নানা অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। তথাকথিত মেগা উন্নয়নের নামে বিদেশি প্রভুদের সন্তুষ্ট না করে রাষ্ট্রকে শিল্পায়নের পথে এগিয়ে নিতে হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে যুবসমাজকে রক্ষার উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ইউনুস সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে জননেতা রাশেদ খান মেনন-কে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। তিনি মেননসহ সকল রাজনৈতিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং তাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান।
সভার সভাপতি বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর সভাপতি তৌহিদুর রহমান বলেন, এদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের পক্ষ্যের কিংবদন্তী নেতা রাশেদ খান মেনন। মেননের মুক্তি দাবি করে সরকারে প্রতি আহবান জানিয়ে তৌহিদুর রহমান আরো বলেন, সারাজীবন সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী রাজনৈতিক অবস্থান মূলত রাশেদ খান মেননের উপর প্রতিহিংসার কারণ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা যুব মৈত্রী সাধারণ সম্পাদক তাপস দাস।
সভায় জননেতা রাশেদ খান মেনন-এর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের ওপর আলোকপাত করে বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি অতুলন দাস আলো। এছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক ও ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তানভীন আহমেদ।
আলোচনা সভা শেষে জননেতা রাশেদ খান মেনন-এর জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা হয় এবং পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেণ মনোজ বাড়ৈ ও সুমাইয়া ঝরা।