সময়মতো স্কুলে আসেন না ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক : ক্ষোভে ফুঁসছে অভিভাবকরা
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ১০নং ছাতিয়াইন ইউনিয়নের ৮৩নং ছাতিয়াইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনুপ কুমার রায়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত দেরিতে বিদ্যালয়ে আসার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ের পরে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন।
রোববার (১৭ মে) সকাল ৯টার পূর্বে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সহকারী শিক্ষিকা মিতালি চক্রবর্তী ও বিউটি রাণী পাল যথা সময়ে উপস্থিত থাকলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনুপ কুমার রায়, শিক্ষিকা মন্দিরা রাণী রায় এবং শিক্ষক হারুন অর রশিদসহ কয়েকজন শিক্ষক যথাসময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়া ফুলমালা নামে এক শিক্ষিকা ছুটিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরেই শৃঙ্খলার অভাব চলছে। বিশেষ করে অনুপ কুমার রায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে শিক্ষা কার্যক্রমে অনিয়ম বেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষকরা দেরিতে বিদ্যালয়ে এলেও হাজিরা খাতায় সকাল ৯টার সময় উল্লেখ করে স্বাক্ষর করেন।
সরেজমিনে হাজিরা খাতা পর্যালোচনায় দেখা যায়, কোনো শিক্ষকের ক্ষেত্রেই দেরিতে উপস্থিত হওয়ার সময় উল্লেখ করা হয়নি। যদিও প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষক মাঝে মধ্যে দেরিতে আসার কথা স্বীকার করেছেন।
বিদ্যালয়ের একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানদের সময়মতো স্কুলে পাঠাই। কিন্তু গিয়ে দেখি শিক্ষকই আসে না। এতে বাচ্চাদের লেখাপড়ার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।”
অপর এক অভিভাবক বলেন, “সরকার শিক্ষার মান উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। অথচ কিছু শিক্ষকের দায়িত্বহীনতার কারণে গ্রামের বিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চাই।”
আরেকজন অভিভাবক বলেন, “প্রধান শিক্ষক যদি নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসেন, তাহলে অন্য শিক্ষকরা কেন নিয়ম মেনে চলবেন? শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক জানান, সদ্য অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষক শেখ কামরুল হাসানের পর অনুপ কুমার রায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই নিজের ইচ্ছামতো বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে তিনি ইচ্ছামতো বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলীর ঘনিষ্ঠতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় উপস্থিতি দেখিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন সভা-সেমিনার ও অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার নামে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে অমানবিক আচরণের অভিযোগও উঠেছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, অতীতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কিছু মানুষকেও বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছেন অনুপ কুমার রায়।
নিয়মিত দেরিতে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনুপ কুমার রায় বলেন, “আমি যথাসময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করি। তবে মাঝে মধ্যে যানবাহনের ত্রুটির কারণে বিলম্ব হয়।”
দেরিতে এসে হাজিরা খাতায় সকাল ৯টার সময় উল্লেখ করে স্বাক্ষর করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এস এম জাকিরুল হাসান বলেন, “প্রত্যেক শিক্ষককে যথাসময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হবে। কেউ দেরিতে এলে হাজিরা খাতায় প্রকৃত সময় উল্লেখ করতে হবে। যদি দেরিতে এসে সকাল ৯টার সময় উল্লেখ করা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”