ভান্ডারিয়ায় ইউপি সদস্যকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক,পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আত্মগোপনে
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড (পশারিবুনিয়া) এর ইউপি সদস্যকে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে আটক করার ঘটনা ঘটেছে। পরে গণপিটুনির মুখে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি দৌড়ে পালিয়ে আত্মগোপনে যান বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) গভীর রাতে পশারিবুনিয়া গ্রামের প্রবাসী মোঃ মেহেদী হাসান শাহ আলমের বসত ঘরে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মোঃ মামুন অর রশিদ (৪৫) ধাওয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের (পশারীবুনিয়া) ইউপি সদস্য।
তিনি মৃত হারুন অর রশিদের বড় ছেলে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রবাসে অবস্থানরত মেহেদী হাসান শাহ আলমের স্ত্রী মোসাঃ মাসুমা বেগম (৩০)-এর সাথে দীর্ঘদিন ধরে তার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন ওই সম্পর্কের সূত্র ধরে ইউপি সদস্য মামুন অর রশিদ রাতের আঁধারে মাসুমা বেগমের ঘরে প্রবেশ করেন। এসময় স্থানীয় বাসিন্দা শাহানা আক্তার বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
স্থানীয়রা জানান, তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ইউপি সদস্যকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান এবং তাকে হাতে-নাতে আটক করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে তার কিছু দলিয় লোকজনের সহায়তায় তিনি পালিয়ে যান।
প্রবাসী শাহ্ আলমের বোন ঝুমুর ও নুপুর জানান, আমার ভাই দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকায় তার স্ত্রী মামুন মেম্বরের সাথে পরকিয়ার সম্পর্কে জরিয়ে পরেন।যার প্রেক্ষিতে আমাদের মা সহ বোনদের কৌশলে ঘর থেকে বের করে দেয় মাসুম। আমাদের অনেক আগে থেকেই বিষয় টা নিয়ে সন্দেহ হয়। কিন্তু এইবার আমারা হাতেনাতে ধরতে সক্ষম হয়েছি। আমার এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির এমন কর্মকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রবাসী স্বামী মেহেদী হাসান শাহ আলম ও তার স্ত্রী মাসুমা বেগমের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।