সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন: মুকসুদপুরে স্ট্রোক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য নতুন আশার আলো
স্ট্রোক জনিত প্যারালাইজড রোগী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের উন্নয়ন ও পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন।
১৮৬০ সালের সোসাইটি অ্যাক্টের আওতায় জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে নিবন্ধিত (নিবন্ধন নম্বর: KHS-৫১১/ ২০২১) এবং ২০১৬ সালের ফরেন ডোনেশন অ্যাক্টের আওতায় এনজিও বিষয়ক ব্যুরো কর্তৃক নিবন্ধিত (নিবন্ধন নম্বর: ৩৩৪৩) এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সভারঞ্জন শিকদার,সহকারী পরিচালক মলি শিকদার, সম্প্রীতি প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শুভ্রা শিকদার ও প্রোগ্রাম কো- অর্ডিনেটর মাসুম বিল্লাহ সোহাগ দায়িত্বে রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় সাতক্ষীরা জেলার বিনেরপোতা তালতলা এলাকায় অবস্থিত। গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নের বানিয়ারচর গ্রামে ২০২৪ সালের মে মাস থেকে একটি প্রকল্প অফিসের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করা হয়।
দেশীয় অনুদান ও স্থানীয় কন্ট্রিবিউশনের অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য ও প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন প্রকল্প, স্ট্রোকজনিত প্যারালাইজড রোগীদের ফিজিওথেরাপি সেবা প্রদান, প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিশেষ ও একীভূত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্বাস্থ্য, প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার বিষয়ে সচেতনতা মূলক সভা আয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে ইতোমধ্যে উল্লেখ যোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। চলতি বছরে ৯৭ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে মোট ১৪৬৫টি ফিজিওথেরাপি সেশন প্রদান করে তাদের শারীরিক ও সামাজিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ জন প্রতিবন্ধী শিশুকে ২৮৫টি ফিজিওথেরাপি সেবা প্রদান করা হয়েছে। ২০ জন প্রতিবন্ধী শিশু বিশেষ স্কুলের মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করছে। পাশাপাশি ৫০টি সচেতনতামূলক সভা আয়োজন করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে বর্তমানে ২ জন ডাক্তার,৪ জন নার্স, ৫ জন থেরাপি সহকারী, ২ জন শিক্ষক, ৩ জন কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটর এবং ২ জন সাপোর্ট স্টাফ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান,সরকারি সহায়তা আরও বৃদ্ধি পেলে এ অঞ্চলের স্ট্রোক জনিত প্যারালাইজড রোগী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য সেবা ও শিক্ষার পরিধি আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।