মধ্যনগরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও বক্তব্যে এক নারী এ অভিযোগ তুললে বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রমজান মাসের এক রাতে উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং চাপাইতি গ্রামের মৃত আলা উদ্দিনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন তার দুই সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে চাপাইতি গ্রামের সামনের হাওর এলাকায় দুই নারীকে নিয়ে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভিডিও বক্তব্যে ওই নারী দাবি করেন, দেলোয়ার হোসেন একটি ভাড়ার গাড়িতে করে তাকে সেখানে নিয়ে যান। তার সঙ্গে আরও দুইজন ব্যক্তি ছিলেন। পরে হাওরের একটি নির্জন স্থানে অবস্থান করার সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেলে দেলোয়ার হোসেন ও তার সহযোগীরা সেখান থেকে পালিয়ে যান। এ সময় চাপাইতি গ্রামের লোকজন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সুজন মিয়াকে ফোন করে বিষয়টি জানালে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই নারীকে ভবিষ্যতে এ এলাকায় না আসার শর্তে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এটি মধ্যনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম সাহাবুদ্দিন শাহীন-এর নির্দেশনায় করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সুজন মিয়া বলেন, পবিত্র রমজান মাসেও দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দেলোয়ার হোসেন পতিতা ও মদ নিয়ে প্রায়ই সামাজিক অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, উপজেলা বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় থেকে দেলোয়ার হোসেন গত ৫ আগস্টের পর থেকে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি ফোনে বলেন, “বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে।” এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে মধ্যনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম সাহাবুদ্দিন শাহীন বলেন, ঘটনাটির কথা তিনি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।