বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়নে তারেক রহমানের নির্দেশনায় কোম্পানীগঞ্জে সচেতনতামূলক প্রচার ও ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত জাতীয় পুনর্গঠনের ৩১ দফা রূপরেখা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক লিফলেট ও বই বিতরণ এবং নদীভাঙন দুর্গতদের মাঝে মানবিক ত্রাণ সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এই কার্যক্রম পরিচালনা করেন বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা, বিশিষ্ট কলামিস্ট ও কোম্পানীগঞ্জের কৃতি সন্তান মোহাম্মদ নূরুল আফসার বাহাদুর। তিন দিনের সফরে তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরহাজারী ও মুছাপুর ইউনিয়ন এবং কবিরহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় জনগণের মাঝে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির মূল বার্তা পৌঁছে দিতে সচেতনতামূলক লিফলেট ও বই বিতরণ করেন।
বুধবার বিকেল ৫টায় মুছাপুর ক্লোজার সংলগ্ন স্থানে আয়োজিত এক ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, আলু, লবণ, বিস্কিটসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এই সহায়তা মোহাম্মদ নূরুল আফসার বাহাদুরের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং বিএনপির পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়।

সচেতনতামূলক বইয়ে ৩১ দফা কর্মসূচির মূল বার্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল হাই সেলিম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মনসুরুল হক বাবর, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য রফিক উল্লাহ, সাবেক ছাত্রনেতা এরশাদ, কোম্পানীগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং জাসাসের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় নূরুল আফসার বাহাদুর বলেন,“৩১ দফা কোনো রাজনৈতিক ¯েøাগান নয়; এটি একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা, যা জনগণের জীবনমান উন্নয়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করে। দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশে আমি ঘরে ঘরে এই বার্তা পৌঁছে দিচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের এই সংকটময় সময়ে বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। আমি কোনো বিভাজন চাই না, চাই জাতীয় ঐক্য।”
নিজের অবদানের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি ব্যবসায়ী ও কলামিস্ট, দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। কেন্দ্রীয় বিএনপির সঙ্গে আমার সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল। কোনো পদ-পদবির জন্য নয়, দলের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করেছি। আওয়ামী শাসনামলে ১১ দিন আমি ‘আয়না ঘরে’ বন্দি ছিলাম, যা থেকে মুক্তির পর চোখে আঘাতজনিত কারণে দীর্ঘ দুই বছর আমি অন্ধ ছিলাম। আমার একমাত্র অপরাধ—আমি জিয়া পরিবারের একজন অনুগত।”
তিনি আরো জানান, “কোম্পানীগঞ্জের অনেকের সুখ-দুঃখে পাশে থেকেছি। মরহুম ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের সফরসঙ্গী হয়ে বহুবার এলাকায় এসেছি। নতুন প্রজন্ম হয়তো আমাকে চিনে না, তবে প্রবীণ নেতারা জানেন—আমি দলের যেকোনো প্রয়োজনে সবসময় পাশে থেকেছি।”
এলাকাবাসী এই মানবিক ও সচেতনতামূলক উদ্যোগকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও সাধুবাদ জানিয়ে বলেন,“এ ধরনের কার্যক্রম সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা দেয় এবং রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়ায়।”