মুরাদনগরের খামারগ্রামে শতবর্ষের ঐতিহ্যে প্রায় ৪ শতাধিক মুসল্লির ইতেকাফ, যুবসমাজের মেহমানদারী
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খামারগ্রাম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে পবিত্র মাহে রমজানের শেষ দশকে প্রায় চার শতাধিক মুসল্লির অংশগ্রহণে ইতেকাফ পালিত হচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় শত বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা এই ধর্মীয় আয়োজনকে ঘিরে এলাকায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, সোনাকান্দা দারুল হুদা দরবার শরীফের পীর সাহেবগণ ও তাদের ভক্ত-মুরিদানদের অংশগ্রহণে এই মসজিদে বহু বছর ধরে ইতেকাফের আয়োজন হয়ে আসছে। চলতি বছরের ২০ রমজান থেকে দরবার শরীফের বর্তমান পীর সাহেব অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ জন মুসল্লি রমজানের শেষ দশ দিন ইতেকাফে বসেছেন।
ইতেকাফের প্রথম দিনে আগত মুসল্লিদের জন্য ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরির আয়োজন করে খামারগ্রাম দক্ষিণপাড়া যুবসমাজ। প্রতি বছরের মতো এবারও তারা নিজেদের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় এই আয়োজন সম্পন্ন করেন।
এ বিষয়ে পীর সাহেব অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুর রহমান বলেন,
“আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের দাদা হুজুরের সময় থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় শত বছরেরও বেশি সময় ধরে এখানে রমজানের শেষ দশ দিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মুসল্লিদের নিয়ে ইতেকাফ পালন করা হয়ে আসছে। ইতেকাফে অংশ নেওয়া মুসল্লিরা দিন-রাত ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি ইসলামী জ্ঞান অর্জন করে থাকেন। খামারগ্রাম ও আশেপাশের এলাকার মানুষ অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে মুসল্লিদের খেদমত করে থাকেন।”
তিনি আরও বলেন, ইতেকাফ চলাকালীন দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় প্রতিদিন বিশেষ দোয়া করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, শত বছরের এই ধর্মীয় ঐতিহ্য ধরে রাখতে খামারগ্রামের যুবসমাজ ও এলাকাবাসী একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মুসল্লিদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই মহতী উদ্যোগকে এলাকাবাসী প্রশংসা করেছেন।