সুরমা চা বাগানে তলব বন্ধ: মানবিক সংকটে শ্রমিকরা, পাশে দাঁড়ালেন সৈয়দ শাফকাত আহমেদ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার দেশের অন্যতম বৃহৎ সুরমা চা বাগানে টানা চার সপ্তাহ ধরে শ্রমিকদের তলব (মজুরি) বন্ধ থাকায় চরম মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ২,২০০ শ্রমিক পরিবারসহ কয়েক হাজার মানুষ এখন অনিশ্চয়তা ও অভাব-অনটনের মধ্যে দিন পার করছেন।
এক সময় যেখানে প্রতিদিন সকালে দলবেঁধে শ্রমিকরা কাজে যেতেন, সেখানে এখন নেমে এসেছে নীরবতা। কাজ নেই, আয় নেই—শ্রমিকদের চোখেমুখে ভেসে উঠছে হতাশা ও দুশ্চিন্তা।
চা বাগানের শ্রমিকদের জীবন মূলত সপ্তাহভিত্তিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল। প্রতি সপ্তাহ শেষে তারা যে মজুরি পেতেন, তা দিয়েই কোনোভাবে সংসার চালাতেন। সেই সামান্য আয়ের ওপর নির্ভর করত পরিবারের খাবার, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ। কিন্তু গত চার সপ্তাহ ধরে মজুরি বন্ধ থাকায় তাদের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্দশা। অনেক পরিবারে খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে যাওয়ার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছেন অধিকাংশ শ্রমিক। পুরো বাগান এলাকায় এক ধরনের অচলাবস্থা বিরাজ করছে, যা স্থানীয়দের ভাষায় দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
এমন করুণ পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে বাগানের শ্রমিক গোপেশ ভুমিজ বলেন, “আগে সপ্তাহ শেষে মজুরি পেলে পরিবার নিয়ে কিছুটা স্বস্তিতে থাকতে পারতাম। এখন সেই সুযোগও নেই। কাজ বন্ধ, আয় বন্ধ—কীভাবে সংসার চালাবো বুঝতে পারছি না।” তার মতো আরও শত শত শ্রমিক একই দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মোঃ ফয়সলের পুত্র ও সায়হাম নিট কম্পোজিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ শাফকাত আহমেদ। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাগানের শ্রমিকদের জন্য ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫০০ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি শ্রমিকদের বিশুদ্ধ পানির সমস্যা বিবেচনায় চারটি টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য আরও ৪০ হাজার টাকা অনুদান দেন।
শ্রমিক নেতা প্রদীপ কৈরি বলেন, “হঠাৎ করে বাগানের এমন পরিস্থিতিতে আমরা সবাই চরম বিপাকে পড়েছি। প্রায় ২,২০০ শ্রমিক পরিবার এখন দিশেহারা। আমরা চাই দ্রুত বাগান চালু হোক এবং শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মজুরি ফিরে পাক। এই দুঃসময়ে এমপি সাহেবের ছেলের দেওয়া সহায়তা আমাদের জন্য বড় সহায় হয়ে এসেছে।”
সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন, চা বাগানের শ্রমিকরা তাদের শ্রমের ওপর নির্ভর করেই জীবনযাপন করেন। তাই তাদের এই দুর্দশা দেখে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, “বাগানের সমস্যা দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরি। এতে শ্রমিক ও মালিক—উভয়েরই মঙ্গল হবে। শ্রমিকদের এই কঠিন সময়ে আমরা পাশে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো।”
অন্যদিকে বাগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তারা কাজ করে যাচ্ছে। বাগানের ম্যানেজার বাবুল সরকার বলেন, “শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করে দ্রুত বাগান চালু করার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। মালিকপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আশা করছি শিগগিরই একটি সমাধান আসবে।”