কালীগঞ্জে মহাসড়কের উচ্ছেদে লুটপাটের মহাট: মসজিদ ভাঙা হলো, মন্দির-প্রভাবশালীর দোকান বেঁচে গেল!
“কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ” “কেউ খাবে কেউ খাবে না ,তা হবে না তা হবে না”কারো হাসি কারো কান্না এরকম শত মানুষের আহাজারি, আত্মনাদের মধ্যে ব্যাপক অনিয়ম ও বৈষম্যের মধ্য দিয়ে গত দু,দিন ধরে চলছে সড়ক ও জনপদ বিভাগের মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের কাজ। সাতক্ষীরা থেকে কালিগঞ্জ, শ্যামনগর, ভেটখালী পর্যন্ত মহাসড়কের নির্মাণ কাজের জন্য উভয় পাশে অবৈধ স্থাপনা ও বসতি অপসারণের কাজ চলছে। আর এই অপসারণ কে কেন্দ্র করে সড়ক ও জনপদ বিভাগের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা ও সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। তাদের অবৈধ স্থাপনা ঠেকাতে মোটা অংকের টাকা নিয়ে লাল চিহ্ন দেওয়া,আবার টাকার বিনিময়ে সেটা মুছে ফেলা সহ নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও দালালদের বিরুদ্ধে। কেউ ডিসিআরের , কেউ জেলা পরিষদের জায়গার অজুহাত, আবার কেউ আদালতের কাগজপত্রের মাধ্যমে মোটা অংকের বাণিজ্যে পার পেয়ে গেলেও নানান ভোগান্তির শিকার অবৈধ দখলদার ,দোকানদার ,ব্যবসায়ী ও বসবাসকারী নানান শ্রেণীর মানুষ। গত বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দেবহাটা উপজেলার দেবীশহর , হাদিপুর থেকে এ অপসারণের কাজ শুরু হয়। সেখান থেকে নলতার বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙ্গার কাজে অনিয়মের অভিযোগসহ সামান্য ৬ ইঞ্চি জায়গার জন্য মসজিদ রেহাই পায়নি। অন্যদিকে সড়ক ও জনপদ বিভাগের সুবিধাভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোটা অংকের টাকা দিয়ে এই সমস্ত অবৈধ স্থাপনা ভাঙার কাজে সহায়তা পেয়েছে বলে সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে শত শত মানুষ ক্ষোভ অভিযোগ জানান। তারা বলেন আমাদের মসজিদ ভাঙলেও মন্দিরে এবং তাদের দোকানে কোন করা হয়নি । এমনই অভিযোগ গত কালকে নলতার ব্যবসায়ী ,সাধারণ জনগণ তুলে ধরেন সাংবাদিকদের সামনে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল বৃহস্পতিবার(৪ ডিসেম্বর) সকাল ১০ টা থেকে কালীগঞ্জে অপসারণের কাজ শুরু হলে সেখানে সেনা , পুলিশ ,ফায়ার সার্ভিস, ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আবারও বৈষম্যের অভিযোগ ওঠে । তারা বলেন আমরা অবশ্যই রাস্তা চাই, কিন্তু কোন অনিয়ম চাইনা। রাস্তার দু,পাশে অবৈধ স্থাপনা অপসারণে ব্যাপক অনিয়ম বৈষম্য চলছে। অনেকে ডিসিআর, মামলা দেখিয়ে একই জায়গার স্থাপনা ভাঙ্গার হাত থেকে রেহাই পেলেও সাধারণ জনগণ রেহাই পায়নি পাশাপাশি স্থাপনা একটা ভাঙলেও আরেকটি ভাঙ্গা হয়নি এমনই একাধিক অভিযোগ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সাংবাদিকদের দেখান। এই বৈষম্যর প্রতিবাদ করে স্থানীয় শত,শত জনগণ অপসারণ কাজে বাধা দেওয়া ছাড়াও প্রতিবাদ জানায়। এরমধ্যেও তারা রাস্তার দ,পাশের কিছু অবৈধ স্থাপনা দোকান ,বাড়িঘর অপসারণ করলেও এখনো সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গায় বহু অবৈধ স্থাপনা রেখে গত কালকের অপসারণ কাজ শেষ হলেও বৈষম্যের অভিযোগ রয়ে গেছে। রাস্তা নির্মাণের জন্য সড়ক ও জনপদ বিভাগ১৯৬৪ সালে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার উত্তর কালিগঞ্জ এবং দক্ষিণ কালীগঞ্জে প্রায় ৫/৬ শত বিঘা জমি অধিকগ্রহণ করে। রাস্তা নির্মাণের পরে অধিগ্রহণকৃত এই সমস্ত জমি এলাকার নানান শ্রেণী ,পেশার মানুষ দখল করে সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য সহ বসতি স্থাপন করে দীর্ঘ ৬১ বছর সেখানে ভোগ দখল করে আসলেও সড়ক ও জনপদ বিভাগের পক্ষ থেকে কোনরকম বাধা বা হস্তক্ষেপ করেনি। সেই থেকে অনেক ভূমিহীন সহ নানান শ্রেণী পেশার মানুষ অবৈধ ইমারত নির্মাণ করে পরিবার পরিজন নিয়ে দীর্ঘ ৬১ বছর বসবাস করে আসছে। হঠাৎ সড়কের কাজে প্রয়োজনের তুলনায় এই সমস্ত জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে তাদের প্রতিবাদের মুখে পড়তে হয় সড়ক ও জনপদ বিভাগের। ইতিমধ্যে ঐ সমস্ত জায়গায় বসবাসকারী ভূমিহীন সহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, মানববন্ধন সহ নানা কর্মসূচি দিয়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট উচ্ছেদ বন্ধ করার জন্য স্মারকলিপি প্রদান করেছে। তবে এই অবহেলিত জনপদে সবাই রাস্তা চায় তবে প্রয়োজনীয় জায়গা ছাড়া এ সমস্ত বসবাসকারী সাধারণ মানুষদের রক্ষা করার দাবি জানান।