নরসিংদীর রায়পুরায় হাসনাবাদ বাজারে নারী পত্রিকা বিক্রয় কর্মীদের উপর হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে ।
“সংবাদ সম্মেলন।
স্থানঃ-নরসিংদী প্রেস ক্লাব ।
তাং-১৯শে জুন ২০২৪ খ্রিঃ
সময়ঃ- বিকাল ৪:০০টা ।
জাতীয় দৈনিক দেশেরপত্র পত্রিকার নারী বিক্রয় কর্মীদের উপর হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে নরসিংদী জেলা হেযবুত তওহিদ ,সাধারণ সম্পাদক, মোঃ মোকসেদ মিয়া, বক্তব্য দেন । সম্মানিত সুধী আসসালামু আলাইকুম আপনারা জানেন হেযবুত তৌহিদ একটি অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংস্কার মূলক সংগঠন ১৯৯৫ সালে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী পন্নী পরিবারের সন্তান এমনুজ্জামান জনাব মোঃ বায়াজিদ খান পন্নী এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে হেযবুত তওহীদের সদস্যরা অন্যায় অশান্তির বিরুদ্ধে ও মানবতার পক্ষে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে ২০১২ সালে এমামুজজামান জনাব মোঃ বায়াজীদ খান পন্নীর ইন্তেকালের পর বর্তমান এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম হেযবুত তওহীদের নেতৃত্বে দিয়ে আসছেন। আমরা হেযবুত তৌহিদের প্রচারণার কাজে বই-পুস্তক বিক্রি , হ্যান্ডবিল বিতরণ, আলোচনা সভা, জনসভা, মত বিনিময় সভা, সেমিনার, প্রত্রিকা বিক্রি সহ নানা কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। মহা সত্যের আহ্বান মাংসের মাঝে পৌছে দিতে হেযবুত তওহীদের সংগঠনিক কাজের অংশ হিসেবে আমরা দুই ঈদে সর্বাত্মক ভাবে পত্রিকা বিক্রি করে থাকি। প্রতিবছরের ন্যায় এবারে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে আমরা ব্যাপকভাবে পত্রিকা বিক্রির কার্যক্রম চালিয়ে আসছি ।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ, হেযবুত তৌহিদের সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১৮ই জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ তারিখ ( মঙ্গলবার) ঈদের দ্বিতীয় দিন আমার দায়িত্ব দিন নরসিংদী শাখার নারী সদস্য জুবাইদা খাতুন (৩৮), আয়েশা আক্তার খাদিজা (২৩ )সান্তনা আক্তার নিপা (২০) দৈনিক দেশেরপত্র পত্রিকাটি ব্যাপকভাবে প্রচারের উদ্দেশ্যে বের হন। পত্রিকায় বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে উল্লেখিত সদস্যগণ মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানাধীন হাসনাবাদ বাজারে গুলজার মেম্বার মিষ্টান্ন ভান্ডারের দোকানের সামনে দৈনিক দেশেরপত্র পত্রিকা বিক্রয় করার সময় রায়পুরা থানার আমিনগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের হাসনাবাদ এলাকার রাসেল মিয়া (৩৫) সহ অন্তত ১০-১২ জন জুবাইদা খাতুন (৩৮ ) আয়েশা আক্তার খাদিজা (২৩ ) সান্তনা আক্তার নিপা (২০)দের কে পত্রিকা বিক্রয় করতে নিষেধ করে । তখন তারা পত্রিকা বিক্রয়ে নিষেধের কারণ জানতে চাইলে রাসেল মিয়া সহ অন্যরা দৈনিক দেশের পত্র পত্রিকা নিষিদ্ধ ,তোমরা আমাদের বাজারে এই পত্রিকা বিক্রি করতে পারবে না ।এই কথা বলে তারা পত্রিকা বিক্রয় প্রতিনিধিদের নিকট হইতে পত্রিকা টানা হেচরা করে নেয় এবং ছিড়ে ফেলে । তারা নারীদেরকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ ও শ্লীলতা হানি করতে থাকে ।
সুধী, পত্রিকা ছিঁড়ে ক্ষান্ত না হয়ে এক পর্যায়ে রাসেল সহ অন্যরা উত্তেজিত হয়ে হেযবুত
তওহীদের নারী সদস্যদের টানা হেচড়া করে জোরপূর্বক ভাবে একটি অটো রিক্সার মধ্যে তোলার চেষ্টা করে ও শ্লীলতাহানী ঘটায় । তারা অটো রিকশা থেকে নেমে পরলে রাসেলসহ সন্ত্রাসীরা একটি প্রাইভেটকার এনে আবারো জোরপূর্বক ভাবে প্রাইভেট কারে উঠানোর চেষ্টা করে । তখন হেযবুত তওহীদের সদস্যগণ প্রাইভেটকারে উঠতে অস্বীকার করলে রাসেল মিয়া মুটা বাশের লাঠি এনে জুবাইদা খাতুন এর মাথায় বাড়ি দেয় এতে জোবাইদা খাতুনের মাথা ফেটে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে রাসেল । সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা জোবেদা খাতুন ছাড়াও আয়েশা আক্তার খাদিজা ও সান্তনা আক্তার নিপা কে মোটা লাঠি দিয়া এলোপাথারি মারধর, কিল,ঘুষি, লাথি মেরে রক্তাক্ত জখম করে। উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ সন্ত্রাসীরা হেযবুত তওহিদের নারী সদস্যদের পরনের কাপড় চোপড় ধরে টানা হেঁচড়া করিয়া শ্লীলতা হানি ঘটায় ।
সন্ত্রাসী রাসেল সান্তনা আক্তারের হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে আছার দিয়ে ভেঙ্গে ফেলে । সন্ত্রাসী কায়দায় তারা নারী সদস্যদেরকে প্রকাশ্যে হুমকি দেয় যে আর যদি কোনদিন আমাদের বাজারে প্রতিটা বিক্রয় করতে আসে তাহলে তাদের হত্যা করবে । স্থানীয় লোকজনদের সহায়তায় জোবেদা খাতুন সহ অন্যদেরকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ।
সম্মানিত সুধী, হেযবুত তওহীদ একটি নিরপরাধ সত্যনিষ্ঠ আন্দোলন প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ২৯ বছরে হেযবুত তওহিদের কোন সদস্য কোন অপরাধ করে নাই। কোনো আইন ভঙ্গ করে নাই । হেযবুত তওহিদ কেবলমাত্র শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাধ্যমে আল্লাহ যে ইসলাম পাঠিয়েছেন সেই প্রকৃত ইসলাম মানুষের কাছে তুলে ধরছে। হেযবুত তওহিদের বক্তব্য স্পষ্ট দ্ব্যাথহীন, অসঙ্গতি মুক্ত। হেযবুত তওহীদের বক্তব্যকে এক শ্রেণী উগ্রবাদী সাম্প্রদায়িক ধর্ম ব্যবসায়ী জনগণের কাছে পরিকল্পিতভাবে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে ফলে আল্লাহর সত্য দিন প্রতিষ্ঠাতা আমি এই আন্দোলনের নিরপরাধ, নির্দোষ, আইন মান্যকারী সদস্যরা আক্রান্ত হচ্ছে, তাদের জান মালের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, বাড়িঘর আক্রান্ত হচ্ছে। তাদের মানবাধিকার ভুলুন্ঠিত হচ্ছে । এত কিছুর পরও হেযবুত তওহীদ সদস্যরা বারবার আক্রান্ত হয়েছে, হচ্ছে। কিন্তু কোন প্রতিবাদ করেনি । তবে এটা বলতে চাই আমাদেরও কিন্তু আত্মরক্ষার অধিকার আছে । দেশের আইন আমাদের সেই অধিকার দিয়েছে । আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে আমি নরসিংদীর রায়পুরায় হেযবুত তওহীদের নারী সদস্যদের উপর বর্বর রচিত হামলা অপহরণ ও হত্যা চেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এ ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসী রাসেল মিয়া সহ তার সহযোগী সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি ।আর কোনো রাসেল যেন হেযবুত তওহীদের সদস্যদের উপর হামলার সাহস না করে সে জন্য জেলার এসপি ,ওসি সহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি ।