ব্যক্তিত্ব মানে কী?
আশ্রাফুল আলম মোঃ নূরুল হুদা
সিনিয়র শিক্ষক (ইসলাম শিক্ষা)
বড়দল উচ্চ বিদ্যালয়,তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ।
ব্যক্তিত্ব হলো ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিদের সাথে ঘটে যাওয়া দৈনন্দিন জীবনের আচরণের রুপের প্রকাশ। একজন মানুষ প্রবাহমান সমাজে আচরণিক রুপের নানা বৈচিত্র প্রকাশ করে। এতে তার যেমন সুন্দর দিক ফুটে উঠে তেমনি তার অসুন্দর দিকটিও ফুটে উঠে। আচরণিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সমাজ ব্যবস্হায় প্রকাশিত সুন্দর আচরণের লোকটিকে বলা হয় ভালো ব্যক্তিত্বের অধিকারী। আর প্রকাশিত খারাপ আচরণের লোকটিকে বলা হয় লোকটির চলাচল খুবই অসুন্দর বা খারাপ। তার ক্ষেত্রে সুশীল সমাজ খারাপ পর্যন্তই থমকে যায়। তার সাথে ব্যক্তিত্ব কথার মিশ্রণ ঘটাতে সমাজ তেমন আগ্রহ প্রকাশ করেনা।
সবাই যার যার গন্তব্যপথে প্রতিনিয়ত নিজস্ব আয়নায় ছুটাছুটি করছে। কেউ এতে বিজয়ী আবার কেউ পরাজিত। বিজয়ীরা হয়তোবা আদর্শের দিক দিয়ে এগিয়ে। আর পরাজিতরা আদর্শ বিমূখ।
তবে বর্তমান আচরণিক মাইনাস সমাজে আচরণিক মানদন্ডে নেগেটিভ প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধবানরা প্রায়ক্ষেত্রেই খুব দ্রুততায় সেলিব্রিটি।
আদর্শ, ব্যক্তিত্ব ও যোগ্যতা মাঠ পর্যায়ে এখন চরম অসহায়! সর্বোপরি মিথ্যা, ছলনা ও অনাদর্শের চতুর্দিকে জয়জয়কার। মিথ্যা ও ছলনায় যে বেশী পটু সে সমাজে ততো বেশী স্মার্ট তথা অনেকটাই এগিয়ে। অন্ধকার বিভীষিকাময় ভয়ংকর এ দুর্গন্ধের গলিপথকে যারা লাল কার্ড দেখিয়েছে তারা ইতিহাসে সুশীলসমাজের সভ্যতার মনিকোঠায় নন্দিত স্হানে জায়গা নিতে সক্ষম হয়েছে। ক্ষণস্থায়ী এ ধরায় সত্য সুন্দর ও মানবিকতাকে আলিঙ্গন করাই সঠিক উপলব্ধি। সংখ্যার দিক দিয়ে হয়তোবা গণনায় কম। তবে ইতিহাস ও অভিজ্ঞতা অঙ্গুলি নির্দেশ করে সকল দুষ্ট চক্রই বেলা শেষে সত-সততা ও আদর্শবানদের কাছে নীরবে চরম অসহায়ত্ব সহ অনুতাপের সাক্ষী হয়।
এ ব্যাপারে ব্যক্তিত্বের অল্প কিছু গুণাবলী দেখে নেই।
১/কথা ও কাজের সঠিক সমন্বয়।
২/বলা কম শুনা বেশী।
৩/পরিবেশ আঁচ করা।
৪/ কথায় কোন প্রকার জড়তা নয়, থাকবে স্পষ্টতা।
৫/কথা,আলোচনা ও সিদ্ধান্তে নিজের আত্ববিশ্বাস থাকতে হবে।
৬/কোন বিষয়ের আলোচনার আগে ঐ বিষয়ের বিষয় জ্ঞান স্পষ্ট হবে।
৭/অন্যের বক্তব্যে নিজের মনযোগ।
৮/ কোন কথা শুনা মাত্রই মাঠে পাবলিস্ড না করা।
৯/সিনিয়র ও জুনিয়র নির্ণয়ে সঠিক উপলব্ধি।
১০/অসম্মান,অযৌক্তিক ও অগঠনমূলক কথা সহ একগেয়েমি পিছনে ফেলা।
১১/আলোচনায় তর্কে না যাওয়া।
১২/অন্যের উপলব্ধির সঠিক মূল্যায়ন সহ নিজের অবস্হান বুঝা।
১৩/এমন আসনে না বসা যেখান থেকে সহজেই উঠে আসতে হয়। যা অন্যের বাঁকা চোখে সহজেই ধরা পরে।
১৪/সামান্য লোভে এমন কাজ না করা যা নিজের পদ পদবীর সাথে সাংঘর্ষিক।
১৫/ যে কোন কাজ ও বিষয়ে, বিষয় ও সময়ের উপযুক্ততা বিবেচনা করে পূর্ণাঙ্গ শৃংখলায় রুটিন বিন্যাস।
আসুন, নিজের সত্বাকে ভালো করে জানি, বিশ্লেষণ করি, পরিবেশকে উপলব্ধি করি,সমস্যা চিহ্নিত করে নিজের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করি।
তাহলেই আমাদের ব্যক্তিত্ব,
পরিবার, সমাজ তথা এলাকায় হবে নন্দিত। আমরা হবো ব্যক্তিত্ববান, উঁচু, দায়িত্বশীল ও সমাজের আলোকিত পার্সন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সামনের দিকে এগিয়ে চলার তৌফিক দান করুন।
নির্বাহী সম্পাদক: মো: মোসাদ্দেক হোসেন বাবুল
প্রকাশক: ইমরান জামান কাজল
www.sawdeshtvnews.com