জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাড়তি টাকা না দিলে মেলে না চিকিৎসা
সাধারণ মানুষের জন্য অল্প খরচে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তবে এসব হাসপাতালে রোগী ও তার স্বজনদের সেবা পেতে গুনতে হয় সরকার নির্ধারিত ফি’র চেয়েও অতিরিক্ত টাকা। নয়তো সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন সাধারণ মানুষ।
চিকিৎসাকাজে অবহেলা, অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক রাশেদ, ওয়ার্ড বয় আলমগীর হোসেন ও সাইফুল হোসেনের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, রোগী বাণিজ্য করে ক্লিনিক ও প্যাথলজি থেকে নানা উপঢৌকন গ্রহণ করছেন চিকিৎসক-নার্স ও কর্মচারীগণ। সম্প্রতি সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা কমপক্ষে কয়েকজন রোগী ও তাদের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যেসব রোগী দুর্ঘটনাসহ অন্যান্য কারণে ড্রেসিং করেছেন তাদের সবাইকে ১০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। এছাড়া রুগীকে সেলাই বা প্লাস্টারের ধরনের ওপর নির্ভর করে টাকার পরিমাণ কম বেশি হয়। গত সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার খয়েরহুদা গ্রামের আকাশের হাতে হাসুয়ার আঘাতে কেটে গেলে হাসাপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তার হাত অতিরিক্ত কেটে যাওয়া সেলাই বাবদ তার নিকট থেকে অতিরিক্ত ৪০০ টাকা নিয়েছেওয়ার্ড বয় আলমগীর হোসেন। এছাড়াও হেলাল উদ্দিনের ছেলে নিকট থেকে অতিরিক্ত ৩০০টাকা নেন।
গত রোববার রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় ফয়সাল, সাগর, হাসেম,বাবুলসহ কয়েকজন আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে আসলে তাদের থেকেও অতিরিক্ত ৬০০টাকা নেন সাইফুল হোসেন ও আলমগীর এবং তাদের সাথে দৃঢ় আচরণসহ ঠিক মত চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ তোলেন চিকিৎসক রাশেদের বিরুদ্ধে। হাসেম নামের এক রোগী অভিযোগ করে বলেন, রোববার রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় তার চোখে ও মাথায় কাচ ডুকে যায় এছাড়া পায়ে মারাত্মক ভাবে আঘাত পেলে চিকিৎসার জন্য হাসাপাতালে আসলে চিকিৎসক রাশেদ তাকে ঠিক মত চিকিৎসা না দিয়েই কোন রকম ব্যন্ডিজ করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেন। এবং ব্যন্ডিজ করার জন্য সাইফুল ৬০০টাকা নেন।
হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় আলমগীর হোসেন অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি জানান, আমার ভূল হয়েছে,আমাকে এবারের মত মাফ করে দেন আমি দ্বিতীয় বার এভূল আর করবো না। অপর ওয়ার্ড বয় সাইফুল বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন,আমি গত দিন ছুটিতে ছিলাম। এ বিষয়ে চিকিৎসক রাশেদের কাছে জানতে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করলে তিনি কল রিসিভ করেনি। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. মবগুল হাসান বলেন, ওয়ার্ড বয়দের বিরুদ্ধে এর আগেও এ ধরণের অভিযোগ এসেছে, তাদের মৌখিক ভাবে সতর্ক করা হয়েছে এবং রুমের ভিতরের ক্যমেরা লাগানো হয়েছে। যাতে প্রমাণ স্বরূপ তাদের সকল কর্মকাণ্ড রেকর্ড রাখা হয়। তারপরও এমন কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ভাবে যে ব্যবস্থা গ্রহণ তা করা হবে। চিকিৎসক রাশেদের বিষয়ে তিনি জানান, আমি এক সপ্তাহ হলো এসেছি। আমার জানা মতে রাশেদ ডাক্তার রোগীদের সাথে এধরণের আচরণ করে না, তারপরও যদি তিনি এধরণের আচরণ করে থাকলে ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটির ফলাফল অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।