খুলনা সিটির খালিশপুর থানার অধীনস্ত ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার প্লান্টে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার।
খুলনা সিটির খালিশপুর থানার অধীনস্ত ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার প্লান্টে চুরি।খালিশপুর থানার অধীনস্থ নিউজ প্রিন্ট মিলের ভিতর গত স্বৈরাচারী সরকারের আমল থেকে তৈরি হচ্ছে ৮০০মেগাওয়াট কেন্দ্র। কোটি কোটি টাকা ব্যয় নির্মিত হচ্ছে এই ৮০০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্লান্টের বিদ্যুৎকেন্দ্র। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল জ্বালানি শক্তি হচ্ছে গ্যাস টারবাইন। তবে প্রায় দেখা যায় যে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভিতর থেকে দামি দামি লোহা তামা পিতল ইত্যাদি সরঞ্জামাদি চুরি হয়ে যায়।
এই চুরির মূল হোতা হিসেবে কাজ করে তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের ১৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সহযোগী লোকজন।তারা দীর্ঘদিন যাবত এই পাওয়ার প্লান্ট থেকে দামি দামি তামার কেবল, লোহা,পিতল মটর সহ বিভিন্ন সামগ্রী আলমনগর রোড সংলগ্ন জজ সাহেবের বাড়ির কবরস্থানে ভাঙা দেয়ালের ফাকা অংশ দিয়ে এই মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। এই চুরিতে সাহায্য করে উক্ত পাওয়ার প্লান্টের সাথে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা এবং সিকিউরিটি লোকজন।
এদের যোগ সাজোসে একশ্রেণীর চোরসিন্ডিকেট তাদের লোকজন নিয়ে এই মালামাল চুরিতে সাহায্য করে। এই চুরি করা মালামাল গুলো খুলনার বিভিন্ন ভাঙ্গারি দোকানগুলোতে গিয়ে বিক্রি করে ।এবং উক্ত পাওয়ার প্লান্টে কর্মরত সিকিউরিটি গার্ড ও কর্ম কর্তাদের ভাগের টাকা এই চোর সিন্ডিকেটের লোকজন বিকাশের মাধ্যমে করে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ দুপুর ১বেজে ১৫ মিনিটে বসুন্ধরা এলপিজি গ্যাসের দুটি বড় সিলিন্ডার যার একটি সিলেন্ডার সম্পূর্ণ ভরা এবং অন্য সিলিন্ডারটি খালি এই দুটি সিলিন্ডার নিয়ে উক্ত জজ সাহেবের বাড়ির দেয়ালের ভাঙ্গা অংশের ফাঁকা দিয়ে চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন চোরকে ধাওয়া করলে, চোর সদস্যরা সিলিন্ডার দুটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে স্থানীয় এলাকাবাসী উক্ত সিলিন্ডার দুটি এনে সাবেক ৪ বার ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বাবুল এর ছোট ভাই মোহাম্মদ জাকির হোসেন আহবায়ক ১৩ নং ওয়ার্ড বিএনপি, এর নিকট এ ব্যাপারে জানালে তিনি তৎক্ষণাৎ খালিশপুর থানা পুলিশকে এ ব্যাপারে অবগত করেন।
খালিশপুর থানা পুলিশ এ এসআই মোহাম্মদ আল আমিন খালিশপুর থানার মোবাইল গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থানে এসে উপস্থিত হয়, এবং উপস্থিত সাক্ষীর গণের সম্মুখে উক্ত সিলিন্ডার দুইটি গাড়িতে নিয়ে খালিশপুর থানায় সিজার লিস্টের মাধ্যমে জমা প্রদান করা হয়।
অতঃপর সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ভাই জনাব জাকির হোসেন স্থানীয় লোকজনদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, এভাবে সরকারি মালামাল চুরি হওয়ার হাত থেকে রোধ কল্পে যাবতীয় সকল ব্যবস্থা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে গ্রহণ করার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানায়।