খুলনা সিটির তালতলা উদয়ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬ জন শিক্ষক এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত, এবং অভিযোগকারীদের অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য দেওয়া হচ্ছে নানা প্রকার হুমকি।
প্রথমত ঘটনার সূত্রপাত হয় প্রধান শিক্ষক মোঃ মনিরুল ইসলাম ২০২৩ সালের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মনিরুল ইসলাম সনাতন ধর্মের নামে নিজের ফেসবুকে একটা অপপ্রচার মূলক ছবি শেয়ার করে , এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে যখন সনাতন ধর্মাবলম্বী লোকজন মানববন্ধন ও বিভিন্ন প্রকারের কর্মসূচি গণমাধ্যমে প্রকাশ করে তখন তার বিরুদ্ধে খুলনা প্রাথমিক শিক্ষাঅফিসের বিভাগীয় কার্যালয় একটি অভিযোগ গঠন হয়। উক্ত অভিযোগের প্রধান সাক্ষী ছিলেন উক্ত উদয়ন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক কিরীটি রায়। উক্ত অভিযোগ তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন খুলনা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উপবিভাগীয় পরিচালক, গত ২১/৮/২০২৩ তারিখে উক্ত তদন্তে উক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষক কিরীটি রায় উক্ত প্রধান শিক্ষক মনিরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষী উপস্থাপন করিলে উক্ত প্রধান শিক্ষকের এক বছর এর জন্য বেতন ইনক্রিমেন্ট বাতিল করা হয়।
পরবর্তীতে উক্ত প্রধান শিক্ষক কিরীটি রায় এর উপর ক্ষুব্দ হয়ে গত ২৫ /০৯/২০২৩ তারিখে তাকে বহিরাগত লোকজনে এনে তার উপরে শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং পরবর্তীতে উক্ত শিক্ষক কিরীটি রায় বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে দুই শিক্ষার্থীর ধর্ষণের চেষ্টা অর্থাৎ নারী শিশু নারী শিশু ১০(ক) ধারা অনুযায়ী ধর্ষণের চেষ্টা অভিযোগ এনে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন, উক্ত মামলায় কিরীটি রায় ১৮ /২ /২৪ তারিখে খুলনায় নারী শিশু ৩ নং আদালত হতে আনিতো অভিযোগের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রমাণ না থাকায় বেকসুর খালাস পেয়ে যায়।
পরবর্তীতে দ্বিতীয় দাফায় মোঃ মনিরুল ইসলাম প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৫/১০/২৩ইংরেজি তারিখে উক্ত অপপ্রচারের ফলে তাহার বদলির আদেশ হয় এবং উক্ত আদেশে বলে তাকে পল্লী তীর্থ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গত ২৩-১-২০২৪ তারিখে বদলি করা হয়।
এ ছাড়া উক্ত উদয়ন প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্যান্য শিক্ষকগণ যেমন নুরুন্নাহার খাতুন, শুক্লা রানী কর্মকার, সুলতানা রাজিয়া, রহিমা খানম, পলা হালদার এই পাঁচ প্রাথমিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে যে, বিদ্যালয়ে সঠিক সময়ে উপস্থিত থাকেন না, এছাড়া তারা বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা প্রদানে বিলম্ব করে, অধিকাংশ শিক্ষক প্রাইভেট পড়ান, প্রাইভেট পড়ানোর সময় এই শিক্ষকরা শর্ট নোট প্রদান করেন, বানানে ভুল শিখায়, বিদ্যালয় সঠিক টাইম মতো শিক্ষাপ্রদান না করা, ইত্যাদি বিষয়ে যখন কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ এই বিষয়ে শিক্ষা অফিসারের নিকট অভিযোগ করেন।
উক্ত অভিযোগের তদন্ত গত ১১/৭/২০২৪ ইংরেজি তারিখে হওয়ার কথা থাকলেও তা বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৪ এর কারনে উক্ত তদন্তের তারিখ পিছিয়ে দিয়ে আগামী ৩০/৭/২০২৪ তারিখে এ সকল অভিযোগে তদন্তের দিন ধার্য করা হয়।
এর ফলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে চলে উপরি মহলে নানা ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহার,
অভিযোগ প্রত্যাহারের নানা প্রচেষ্টা, অন্যের প্ররোচনায় এসে অভিযোগ প্রদান, এ সকল বক্তব্য প্রচারের মাধ্যমে অভিযোগ কারিগণ খুবই ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। বিশেষ প্রতিনিধির এ বিষয়ে তদন্ত করতে গেলে তার সঙ্গে কথা হয় একজন অভিযোগকারী
শুক্লা রানী ঘোষের সঙ্গে, তিনিএ সকল শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। পরবর্তীতে শুক্লা রানী ঘোষের স্বামীকে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিগণ নানা ধরনের হুমকি প্রদান করেন। যার ফলে শুকনা রানী ঘোষ এর স্বামী বিপ্লব ঘোষ তার স্ত্রীকে এই অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করে এবং বলেন যে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য। শুকলারাণী ঘোষ এই অভিযোগ প্রত্যাহারে অনিচ্ছা প্রকাশ করিলে তার স্বামী বিপ্লব ঘোষ তার উপরে প্রহার করে। এই ঘটনা জানতে পেরে আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি শুক্লা রানী ঘোষের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হয়, শুক্লা রানী ঘোষের স্বামী বিপ্লব ঘোষের সঙ্গে কথা বলেন, বিপ্লব ঘোষ কোন প্রকারের মানতে রাজি নয় তার স্ত্রীর করা এই অভিযোগের। তিনি সরাসরি বলে দেন যে আমার স্ত্রী কোন প্রকার কোন সাক্ষী বা কোন প্রকার কোন অভিযোগের সঙ্গে নিজেকে জড়িত রাখবেন না।
যার ফলশ্রুতিতে বিপ্লব ঘোষ জোর করে তার স্ত্রী শুকলা রানী ঘোষকে দিয়ে জোর করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী মোতাবেক অভিযোগ প্রত্যাহারের স্বাক্ষর গ্রহণ করান।
অপর দিকে উক্ত উদয়ন প্রাথমিক বিদ্যালয় এর শিক্ষক কিরীটি রায় উক্ত নারী শিশু ধর্ষণের চেষ্টা মামলায় বেকসুর খালাস হওয়ার পরেও তাকে আজ পর্যন্ত তার কর্মস্থানে বহাল করার কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড আর এই মেরুদন্ডের সঠিক পথে চালিত করার জন্য যে শিক্ষকের দরকার তা আসলে আমাদের সমাজে বড়ই বিরল। অধিকাংশ শিক্ষকগণ বাড়িতে প্রাইভেট পড়ানোর ফলে তারা শর্ট নোট দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভালো রেজাল্ট করানোর চেষ্টা করে, ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থী তাদের জ্ঞানের ভান্ডারকে বিস্তার করতে পারেনা এবং ভবিষ্যতে গিয়ে তাদের এই জ্ঞানকে তারা সঠিক পথে চালিত করতে পারে না।